Body Care Tips, Face Care Tips, Skin Care Tips

আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা বুঝবেন কীভাবে?

ড্রাই স্কিন

স্কিনের প্রতি যত্ন নেওয়া সকলেরই উচিত কিন্তু তার সঙ্গে মাথায় রাখতে হবে আদৌ নিজের স্কিনের টেক্সচার সম্পর্কে জানেন তো? নইলে কিন্তু বেশ মুশকিল। স্কিনের প্রতি যত্নশীল তখনই হওয়া যাবে যখন সঠিকভাবে এবং সঠিক প্রসাধনী ব্যবহার করে তার যত্ন নিবেন।

উজ্জ্বল, দাগহীন ও সুন্দর ত্বক নিজের কনফিডেন্স লেভেলটা আরও বাড়িয়ে দেয়! সুন্দর ত্বক পেতে বেসিক স্কিন কেয়ার রুটিন ফলো করতে হবে। ত্বকের ধরন বুঝে পরিচর্যা করাটা খুবই ইম্পরট্যান্ট। আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা আগে বুঝতে হবে। ডিহাইড্রেটেড স্কিন বলতে ঠিক কী বোঝায়, সেটাই অনেকে জানেন না! তাই আজকের লেখাটি ড্রাই এবং ডিহাইড্রেটেড স্কিন নিয়ে। আলোচনা করবো এই সম্পর্কিত খুঁটিনাটি বিষয়ে।

ড্রাই স্কিন এবং ডিহাইড্রেটেড এই শব্দদুটো যতই পরিপূরক হিসেবে ব্যবহার হোক না কেনো! দুটির ধাঁচ কিন্তু একেবারেই আলাদা।

‘ড্রাই স্কিন’ শব্দটি শুনেই মনে হয় ত্বকে কেমন যেন শুষ্ক শুষ্ক ভাব, তাই না? আর ড্রিহাইড্রেডেট শুনলে মাথায় যেটা আসে সেটা হচ্ছে পানির অভাব। দুইটি টার্ম কাছাকাছি হলেও এর মধ্যে কিন্তু পার্থক্য আছে। ড্রাই স্কিনে ন্যাচারাল যে অয়েল (সেবাম) থাকে, সেটা কম প্রোডিউস হয়। ত্বক থেকে নিঃসৃত এই সেবাম ময়েশ্চারাইজারকে লক করে রাখে তখন স্কিন ড্রাই হতে পারে না। যাদের স্কিনে ন্যাচারালি এই অয়েল কম থাকে, তাদেরই স্কিন ড্রাই ফিল হয়।
আর ‘ড্রিহাইড্রেটেড’ কোনো স্কিন টাইপ নয়। এটি একটি টেম্পোরারি স্কিন কন্ডিশন। যেকোনো ধরনের ত্বকই ডিহাইড্রেটেড হতে পারে। স্কিনে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি না থাকলে এমনটি হয়। কনফিউশন আসে তখনই, যখন আপনার স্কিন রুক্ষ ও মলিন দেখায়। স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা অনেকেই বুঝতে পারেন না!

আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা বুঝবেন কীভাবে?

*ড্রাই স্কিনের লক্ষণ
•স্কিন অনেকটা রাফ দেখায় কিংবা ইচিনেস থাকতে পারে
• সব সময়ই ত্বক শুষ্ক হয়ে থাকে
• স্কিনে প্যাচিনেস, সাদা সাদা ছোপ, ইরিটেশন এই ধরনের সমস্যা হতে পারে
• খুব দ্রুতই ত্বকে বয়সের ছাপ ও চোখের নিচে ফাইন লাইনস চলে আসে
• স্কিন অতিরিক্ত ড্রাই হয়ে গেলে চামড়া উঠে উঠে আসে এবং খসখসে লাগে
• মেছতার সমস্যা দেখা দিতে পারে

*ডিহাইড্রেটেড স্কিন বুঝায় উপায়-
বাসায় বসে ছোট্ট একটি টেস্টের মাধ্যমে সহজেই বুঝতে পারবেন আপনার স্কিন ডিহাইড্রেটেড হচ্ছে কিনা। আপনার গালের যেকোনো অংশে লাইটলি প্রেস করুন। স্কিন আগের জায়গায় যেতে যদি সময় নেয় তাহলে বুঝবেন স্কিন সঠিক পরিমাণে হাইড্রেটেড না। এই সময়ে স্কিনে খুব টানটান ফিল হয়, সেই সাথে স্কিন নিষ্প্রাণ ও মলিন দেখায়। অয়েলি স্কিন বা কম্বিনেশন স্কিনেও খুব সহজে এই কন্ডিশন দেখা দিতে পারে। তাই হুট করে যদি ত্বক রুক্ষ লাগে, এটা ধরে নিবেন না যে আপনার স্কিন টাইপ ড্রাই হয়ে গিয়েছে! হাইড্রেশনের অভাবেও এটি হতে পারে।

এখন জেনে নেয়া যাক এই ধরনের ত্বকের যত্ন নিবেন কিভাবে!

শুষ্ক ত্বকের যত্ন
১) ফেইস ওয়াশ ও স্ক্রাব নির্বাচন করা
২ ) ময়েশ্চারাইজার অ্যাপ্লাই করা
৩) ফেইস মাস্ক লাগানো
৪) অ্যালোভেরা জেল দিয়ে ম্যসাজ
৫)অয়েল ম্যাসাজ

হাইড্রেটেড ত্বকের যত্ন কীভাবে নিতে হবে?
আপনার ত্বক যদি ডিহাইড্রেটেড হয়ে থাকে, তাহলে মাইল্ড ক্লেনজার সিলেক্ট করুন। কুসুম গরম পানি দিয়ে মুখ ধুতে হবে। এর পরের ধাপেই হাইড্রেটিং টোনার ব্যবহার করুন বা রোজ ওয়াটার স্প্রে করে নিন।

ত্বকের ধরন বুঝে স্কিন কেয়ার প্রোডাক্ট ব্যবহারের পাশাপাশি আপনি সঠিক ডায়েট এবং হেলদি লাইফ স্টাইল ফলো করলে সহজেই স্কিন নরমাল কন্ডিশনে ফিরে আসবে। কিছু কিছু বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
•প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ গ্লাস পানি পান করা
• ক্যাফেইন জাতীয় পানীয় কম পান করা
• ওয়ার্ক আউট করার পর ফ্লুইড জাতীয় খাবার খাওয়া/ ফ্রেশ ফ্রুট জুস/ ডাবের পানি পান করা
• অতিরিক্ত চিনি এবং লবণযুক্ত খাবার পরিত্যাগ করা
• ধূমপান থেকে বিরত থাকা।

সুতরাং বুঝতে পারলেন স্কিন টাইপ বুঝে যত্ন নেওয়ার উপায়গুলো কী কী! আপনার স্কিন ড্রাই নাকি ডিহাইড্রেটেড সেটা বোঝার ট্রিকসও জেনে নিলেন। ত্বকের ধরন বুঝে যত্ন নিন। এতে ত্বক থাকবে স্বাস্থ্যজ্জ্বল আর আপনি সবসময়ই থাকবেন লাবণ্যময়ী।

Leave a Reply